আমরা আশা করছি, আপনাদের ওয়েবসাইট Islam Q&A (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব) কে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মুক্তহস্তে দান করবেন; যাতে করে ইনশা আল্লাহ্ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সেবায় আপনাদের ওয়েবসাইট তার পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।
আমরা কীভাবে আমাদের হৃদয়ে তাকওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারব? আমি টিভি দেখে ও গেইম খেলে সময় নষ্ট করি। আমার কী করণীয়?
যে বিষয়গুলো আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে:
আলহামদু লিল্লাহ।.
আল্লাহ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে ভয় করো এবং 'মুসলমান' থাকা অবস্থা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে না।”[সূরা আলে-ইমরান: ১০২]
তিনি আরো বলেন:
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ
“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম।”[সূরা নূর: ৫২]
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ
“আল্লাহ তো তাদের সাথেই আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং যারা সৎকর্মশীল।”[সূরা নাহল: ১২৮]
তিনি জানিয়েছেন যে তিনি তাদের মিত্র। তিনি বলেছেন:
وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ
“আর আল্লাহ মুত্তাকীদের মিত্র।”[সূরা জাসিয়া: ১৯]
وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই।”[সূরা আ’রাফ: ১২৮]
তিনি জানিয়েছেন যে দুনিয়া-আখিরাতে তারাই বিজয়ী ও সফল। তার বাণী:
وَنَجَّيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
“আর যারা ঈমান এনেছিল এবং (তদানুযায়ী) তাকওয়া অবলম্বন করে চলত আমি তাদেরকে রক্ষা করেছিলাম।”[সূরা ফুস্সিলাত: ১৮]
তিনি আরো বলেন:
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا
“অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছিল আমরা তাদেরকে উদ্ধার করব।”[সূরা মারইয়াম: ৭২]
আল্লাহ বলেন:
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا
“মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে এক বিরাট সাফল্য (জান্নাত)।”[সূরা নাবা: ৩১]
মুমিনদের মধ্যকার মুত্তাকীরাই আল্লাহর মিত্র। আল্লাহ বলেন:
أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ
“জেনে রাখো, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছিল এবং (তদানুযায়ী) তাকওয়া অবলম্বন করে চলত।”[সূরা ইউনুস: ৬২-৬৩]
এ সংক্রান্ত আয়াত অনেক।
তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে ভাবনা ও উভয়টির মর্যাদা বোঝা বান্দাকে তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে। এই জ্ঞান মানুষকে আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত লাভ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য চেষ্টার দিকে ধাবিত করে। তাই তো মহান আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন: “তা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”[সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩]
এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা রাখার উপদেশ দেন। এই উপদেশের উপর তাগিদ প্রদান করেন এবং জানিয়ে দেন যে এর অনুরূপ কিছুই নেই। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন।’ তিনি বললেন: “তুমি রোযা রাখবে। কারণ এর মত আর কিছুই নেই।” আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন।’ তিনি বললেন: “তুমি রোযা রাখবে। কারণ এর মত কিছুই নেই।”[হাদীসটি আহমদ (২২১৪৯) ও নাসাঈ (৪/১৬৫) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন]
তিনি আরো বলেন:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنْ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ أُوْلَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
“তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের চেষ্টা করো যার বিশালতা আসমান ও যমীনের মত, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সুদিন ও দুর্দিনে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায়। আল্লাহ ছাড়া পাপ ক্ষমা করবে কে? এবং তারা জেনেশুনে নিজেদের কৃতকর্মের (গুনার) উপর অব্যাহত থাকে না। তাদের প্রতিদান হলো— তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও এমনসব জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল বাস করবে। সৎকর্মশীলদের এই প্রতিদান কতই না উত্তম!”[সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩-১৩৬]
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“আর এই হচ্ছে আমার সরল পথ। অতএব, তোমরা এ পথই অনুসরণ করো, অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না। করলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তিনি তোমাদেরকে এই আদেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা (বিভ্রান্তি থেকে) বেঁচে থাকতে পারো।”[সূরা আল-আন’আম: ১৫৩]
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
“এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। অতএব, এর কাছে যেয়ো না (এগুলো লঙ্ঘনের চেষ্টা করো না)।”[সূরা বাকারা: ১৮৭]
إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ
“নিশ্চয়ই রাত ও দিনের পরিবর্তনে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেগুলোতে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।”[সূরা ইউনুস: ৬]
তিনি আরো বলেন:
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا
“আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং তাতে বিস্তারিতভাবে সতর্কবাণী বিবৃত করেছি; যাতে করে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণের উপাদান যোগায়।”[সূরা ত্বাহা: ১১৩]
একজন আকলবান ব্যক্তির উচিত সর্বদা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কারণ সে জানে না কখন তার মৃত্যু চলে আসবে। মৃত্যু চলে এলে যে কাজে তার ঘাটতি ছিল, সেটির প্রতিবিধান করা তার জন্য সম্ভব হবে না। ফলে সে এমন সময়ে এসে আফসোস করবে যখন আফসোস কোনো উপকারে আসবে না।
কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে: “তার জীবনকে সে কোন কাজে ব্যয় করেছে এবং তাঁর যৌবনকে সে কীসে নষ্ট করেছে।”[হাদীসটি তিরমিযী (২৪১৬) বর্ণনা করেন ও শাইখ আলবানী সহিহ বলে গণ্য করেন]
সুস্বাস্থ্য ও সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম নেয়ামত, যার মর্যাদা বহু মানুষ হারিয়ে ফেলার আগ পর্যন্ত জানতে পারে না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুটি নিয়ামাত আছে যে ব্যাপারে অনেক মানুষ লোকসানে নিমজ্জিত: সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।”[হাদীসটি বুখারী (৬৪১২) বর্ণনা করেন]
কেনা-বেচার ক্ষেত্রে লোকসান হওয়ার অর্থ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এখানে লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে তা থেকে উপকৃত না হওয়া। বরং তার সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়কে সে এমন কিছুতে ব্যয় করা যা দুনিয়ায় কিংবা আখিরাতে তার কোনো উপকারে আসবে না। এটি একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসায়ের ক্ষতির চেয়ে বড় ক্ষতি।
আকলবান ব্যক্তি জানে যে সে এক মহা পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাকে অবশ্যই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্যে প্রতিটি কষ্ট-ক্লান্তি আখিরাতে শান্তির বিষয় হবে। তাই কোনো এক সালাফ আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে নিজেকে খুবই কষ্ট দিতেন। লোকেরা তাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আরাম করতে বললে তিনি বলতেন: ‘আমি তো নিজের আরামই চাই।’[আল-ফাওয়াইদ (পৃ. ৪২) থেকে সমাপ্ত]
দুনিয়ায় আল্লাহর অবাধ্যতার প্রতিটি আরাম ও সুখের পরিণতি হবে অনুশোচনা ও শাস্তি, যদি কিয়ামতের দিন আল্লাহ এই অবাধ্যতায় লিপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা না করেন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।