Islam QA ওয়েবসাইটের জন্য দান করুন

আমরা আশা করছি, আপনাদের ওয়েবসাইট Islam Q&A (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব) কে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মুক্তহস্তে দান করবেন; যাতে করে ইনশা আল্লাহ্‌ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সেবায় আপনাদের ওয়েবসাইট তার পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।

শিকার করার শর্তাবলি

26-11-2025

প্রশ্ন 194080

ইসলামে কি শিকার করা বৈধ? শিকার করার শর্তাবলি কী কী? আমি কি গোপনে শিকার করতে পারব? কারণ আমি যে দেশে বসবাস করি সেখানে শিকার করা নিষিদ্ধ।

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

স্থলভাগের প্রাণী শিকার করার মূল বিধান হচ্ছে বৈধতা। তবে যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে কিংবা ইহরাম না বাঁধলেও হারাম এলাকার মধ্যে থাকে তার জন্য বৈধ নয়।

অন্যদিকে মাছসহ জলভাগের অন্যান্য প্রাণী শিকার করা ইহরামরত ব্যক্তি ও অন্য সবার জন্য বৈধ।

সুতরাং কেউ যদি বৈধ প্রাণী শিকার করে তা বিক্রি করা, খাওয়া বা দান করা প্রভৃতির মাধ্যমে উপকৃত হয় তাহলে আলেমদের ঐকমত্য অনুসারে তা করতে কোনো নিষেধ নেই।

দেখুন: (152261) নং প্রশ্নের উত্তর।

দুই:

স্থলভাগে শিকারের শর্তাবলি শিকারী, শিকার ও শিকারের উপকরণের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা সংক্ষেপে এর বিবরণ দিব:

১। শিকারীর শিকার সঠিক হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি আবশ্যক:

অতএব, পুরোপুরিভাবে নামায পরিত্যাগ করা ব্যক্তির শিকার ও যবাই হালাল হবে না। কারণ সে কাফের মুরতাদ।

২। শিকারকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে শর্তাবলি:

অন্যদিকে জলভাগের শিকারের ক্ষেত্রে এই সমস্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য নয়। অধিকাংশ ফকীহের মতে (মালেকী, হাম্বলী ও শাফেয়ীদের বিশুদ্ধতম মত) সমুদ্রের সকল প্রাণী শিকার করা ও খাওয়া বৈধ; সেটি মাছ হোক বা অন্য কিছু। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন:  أُحِل لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ  ‘তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে জলের শিকার ও খাদ্য।’ অর্থাৎ জলের শিকারযোগ্য প্রাণী।

সুতরাং যে সমস্ত প্রাণী কেবল জলেই বাস করে সেগুলো সবই হালাল; হোক তা জীবিত কিংবা মৃত।

৩।  শিকারের উপকরণের শর্তাবলি:

শিকারের উপকরণ দুই ধরনের: জড় উপকরণ অথবা প্রাণী।

(ক) জড় উপকরণ:

(খ) প্রাণী:

প্রশিক্ষিত প্রাণী দিয়ে শিকার করা জায়েয। এ ধরনের প্রাণীগুলোকে جوارح (জাওয়ারেহ) বলা হয়ে থাকে। সেটি হতে পারে কুকুর, হিংস্র কোনো প্রাণী কিংবা দন্ত বা নখরবিশিষ্ট পাখি। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কুকুর, চিতাবাঘ, বাঘ, সিংহ, বাজপাখিসহ সব ধরনের প্রশিক্ষিত প্রাণী সমান। যেমন: ঈগল, বাজপাখি, শ্যেন প্রভৃতি।

মূলনীতি হলো: যে সকল প্রাণী শিক্ষা গ্রহণ করার সক্ষমতা রাখে এবং যেগুলোকে শেখানো যায় সেগুলো দিয়ে শিকার করা মৌলিকভাবে জায়েয।

প্রাণীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রযোজ্য:

وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ

“তোমরা শিকারে পাঠানোর জন্য যে সমস্ত পশু-পাখিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছ।”[সূরা মায়েদা: ৪]

তিন:

যদি রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন শিকারের বৈধতা প্রদান না করে অথবা নিষেধ করে তাহলে শিকার করা জায়েয নেই। কারণ এতে করে ঐ রাষ্ট্রের নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ করা হয় যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ভিসা ও কর্মের চুক্তিতে প্রবেশ করেছে। তার জন্য এই চুক্তি মেনে চলা এবং তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। তারা তাকে তার রাষ্ট্রে কেবল ঐ নিয়মকানুন মেনে চলার শর্তেই প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শিকারে নিষেধাজ্ঞা জনকল্যাণের স্বার্থেই হয়ে থাকে, এ অবস্থায় তা মেনে চলা আবশ্যক।

আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে তা মেনে চলা আবশ্যক নয়; তবুও আইন লঙ্ঘন করার ফলে শাস্তির সম্মুখীন হওয়া এমনকি দেশান্তর হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আকলবান ব্যক্তি কখনো নিজের এবং নিজ পরিবারের ক্ষতি করবে না।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

প্রাণী শিকার
ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব ওয়েবসাইটে দেখান