আমরা আশা করছি, আপনাদের ওয়েবসাইট Islam Q&A (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব) কে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মুক্তহস্তে দান করবেন; যাতে করে ইনশা আল্লাহ্ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সেবায় আপনাদের ওয়েবসাইট তার পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।
টেলিফোনে কাস্টমারকে কনভিন্স করে কোনো পণ্য বিক্রি করার বিধান কী? উদাহরণস্বরূপ— পণ্যের আসল বিক্রয়মূল্য ৩০ রিয়াল, কিন্তু, আমি কাস্টমারকে বললাম যে এর দাম ৫০ রিয়াল এবং ঈদ বা অন্য কোনো উপলক্ষ্যে ছাড় দিয়ে এখন ৩০ রিয়াল রাখা হচ্ছে। এটা কি হালাল হবে; নাকি হারাম?
আলহামদু লিল্লাহ।.
ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া এবং তাকে জানানো যে— পণ্যের দাম ৫০ রিয়াল এবং ঈদ বা অন্য কোনো বিশেষ উপলক্ষ্যে তা কমিয়ে ৩০ রিয়াল করা হয়েছে; অথচ বাস্তবে কোনো ছাড় দেওয়াই হয়নি— এটি স্পষ্ট মিথ্যা।
মিথ্যা বলা হারাম। আর ব্যবসার ক্ষেত্রে তা আরও ভয়াবহ। মিথ্যা বলে বিক্রেতা যা উপার্জন করে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। বরং এটি সেই ব্যক্তির জন্য অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা সে কখনো বুঝতে পারে, আবার কখনো বুঝতে পারে না।
ব্যবসায় মিথ্যাচারের ভয়াবহতা বুঝাতে এটুকুই যথেষ্ট যে, এটি বরকত নষ্ট করে দেয়। হাকিম ইবনে হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয় ততক্ষণ তাদের (চুক্তি রাখা বা ভাঙার) এখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং (পণ্যের ত্রুটি-গুণ) স্পষ্ট করে বলে তবে তাদের কেনাবেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা তথ্য গোপন করে এবং মিথ্যা বলে তবে তাদের কেনাবেচার বরকত নষ্ট করে দেওয়া হয়।"[সহীহ বুখারী (১৯৭৩) ও সহীহ মুসলিম (১৫৩২)]
সুতরাং সততা এবং স্বচ্ছতা হলো রিযিক ও সম্পদে বরকত লাভের অন্যতম প্রধান উপায়; আর মিথ্যা ও গোপন করা হলো ধ্বংস ও লোকসানের অন্যতম বড় কারণ।
বিক্রেতা যদি এমন আচরণ নিজের জন্য পছন্দ না করে তবে সে কীভাবে তার মুসলিম ভাইদের জন্য তা পছন্দ করতে পারে?! এটি তার ঈমানের ঘাটতির প্রমাণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"[সহীহ বুখারী: (১৩) সহীহ মুসলিম (৪৫)]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি পছন্দ করে তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় হয় যে সে আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে। আর সে মানুষের সাথে যেন তেমন আচরণ করে যেমন আচরণ সে নিজের জন্য প্রত্যাশা করে।"[সহীহ মুসলিম (১৮৪৪)]
অতএব, যারা এমন কাজ (ভুয়া ছাড়ের প্রতারণা) করে, তাদের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ আল্লাহর শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।