Islam QA ওয়েবসাইটের জন্য দান করুন

আমরা আশা করছি, আপনাদের ওয়েবসাইট Islam Q&A (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব) কে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মুক্তহস্তে দান করবেন; যাতে করে ইনশা আল্লাহ্‌ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সেবায় আপনাদের ওয়েবসাইট তার পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।

ইসলামে খাবার গ্রহণের শিষ্টাচারসমূহ

15-09-2026

প্রশ্ন 13348

ইসলামে খাওয়ার শিষ্টাচারসমূহ কী কী?

উত্তরের সংক্ষিপ্তসার:

ইসলামে খাবার গ্রহণের শিষ্টাচারসমূহের মধ্যে রয়েছে: খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, আপ্যায়নকারী খাবার উপস্থাপন করলে অবিলম্বে তা গ্রহণ করা, খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা, নিজের কাছের অংশ থেকে খাওয়া, খাওয়ার পরে হাত ধোয়া, তিন আঙুল দিয়ে খাওয়া, পড়ে যাওয়া লোকমা তুলে নেওয়া, খাওয়ার সময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া থুতু এবং শ্লেষ্মা না ফেলা, খাদ্যের সমালোচনা না করা, খাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা, পেট ভর্তি না করা, স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্রে না খাওয়া; যেহেতু তা হারাম এবং খাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ বলা।

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

ইসলামী শরীয়তে খাবার গ্রহণের বেশ কিছু শিষ্টাচার রয়েছে। সে শিষ্টাচারগুলো কয়েকভাগে বিভক্ত:

খাওয়ার পূর্বের শিষ্টাচার

ইবনুত তীন বলেন: ‘তিনি জিজ্ঞাসা করতেন কেননা খাদ্যের অপ্রতুলতার কারণে আরবরা কোনো কিছুই খাওয়া অপছন্দ করত না। কিন্তু তিনি কিছু খাবার অপছন্দ করতেন। তাই তিনি জিজ্ঞাসা করতেন। অন্য একটি সম্ভাবনাও থাকতে পারে যে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন এ কারণে যে, শরীয়তে কিছু প্রাণী খাওয়া হারাম, আর কিছু প্রাণী খাওয়া হালাল। কিন্তু, তারা কোনো পশুকে হারাম মনে করত না। হয়তো তারা ভুনা করে বা রান্না করে নিয়ে এসেছে যাতে করে জিজ্ঞাসা করা ছাড়া এটাকে চেনা সম্ভবপর নয়।’[ফাতহুল বারী (৯/৫৩৪)]

দলিল হচ্ছে উমর ইবনে আবী সালামাহর বর্ণনা করেন। তিনি: আমি বাল্যকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিপালনে ছিলাম। সে সময় আমার হাত খাবারের বাসনে ছুটাছুটি করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: “খোকা! ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার কাছের পার্শ্ব থেকে খাও।”[হাদীসটি বুখারী (৫৩৭৬) ও মুসলিম (২০২২) বর্ণনা করেন]

খাবার গ্রহণের সময়ের শিষ্টাচার

যদি ব্যক্তির কোনো ওজর না থাকে সেক্ষেত্রে এ হুকুম প্রযোজ্য। কিন্তু যদি ডান হাতে খাওয়া বা পান করার ক্ষেত্রে অসুস্থতা, অপারেশন বা অন্য কোনো ওজর থাকে সেক্ষেত্রে বাম হাতে খেতে কোনো সমস্যা নেই।

এ হাদীসটি এই ইঙ্গিত করছে যে মানুষের উচিত শয়তানের কাজকর্মের অনুরূপ কাজকর্ম পরিহার করা।

তাছাড়া কেউ তার সাথে বসা ব্যক্তির পাশ থেকে খাওয়া অসদাচরণ ও ব্যক্তিত্বহীনতা। হতে পারে সেই ব্যক্তি এটাকে নোংরা মনে করবে। বিশেষতঃ ঝোল-জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে।

মাঝখান থেকে খাবার না খাওয়ার সপক্ষে দলিল হচ্ছে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “খাবারের মাঝখানে বরকত নাযিল হয়। তাই তোমরা এর চারপাশ থেকে খাও; মাঝখান থেকে খেয়ো না।”[হাদীসটি তিরমিযী (১৮০৫) ও ইবনে মাজাহ (৩২৭৭) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ‘সহীহুল জামে’ (৮২৯) গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেন]

তবে খাবার যদি খেজুর হয় কিংবা নানা জাতের হয় তাহলে খাবারের পাত্রের বিভিন্ন দিকে হাত যাওয়াকে ফকীহরা বৈধ বলে গণ্য করেন।

ব্যক্তি যদি অযু অবস্থায়ও থাকে তবুও খাওয়ার আগে-পরে হাত ধোয়া মুস্তাহাব।

কেউ যদি হাত দিয়ে খায়, তাহলে এই বিধান। তবে চামচ বা অনুরূপ বস্তু ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই।

খাওয়ার পরের শিষ্টাচার

খাওয়া শেষ করার পরে আল্লাহর প্রশংসা হিসেবে যে যিকির বর্ণিত হয়েছে তা পড়া সুন্নত। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দস্তরখান তুলে নেয়া হত তখন তিনি বলতেন: الْحَمْدُ لله حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلاَ مُوَدَّعٍ وَلاَ مُسْتَغْنًى عَنْه رَبَّنَا  “পবিত্র বরকতময় অসংখ্য প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে আমাদের প্রভু! (আমরা) প্রশংসা করছি এমতাবস্থায় যে, অমুখাপেক্ষী হয়ে নয়, আপনাকে বিদায় জানিয়ে নয় ও বিমুখ হয়েও নয়।”[হাদীসটি বুখারী (৫৪৫৮) বর্ণনা করেন] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ ছাড়া অন্য খাবার খেলে বলতেন: اللهمَّ بارِكْ لنا فِيْهِ وأطْعِمْنا خَيْراً مِنْهُ  “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এতে বরকত দিন এবং আমাদেরকে এর চেয়ে ভালো কিছু খাওয়ান।” আর দুধ পান করলে বলতেন: اللهمّ بارِكْ لنا فِيْهِ وزِدْنا مِنْهُ  “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এ খাবারে বরকত দিন এবং এই খাবার আরও বাড়িয়ে দিন।”[হাদীসটি তিরমিযী (৩৩৭৭) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ‘সহীহুল জামে’ গ্রন্থে (৩৮১) হাদীসটিকে হাসান বলেন]

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ যাকে কোনো খাবার খাওয়ায় সে যেন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এ খাবারে বরকত দিন এবং আমাদেরকে এর থেকে ভালো কিছু খাওয়ান। আর আল্লাহ যাকে দুধ পান করায় সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এ খাবারে বরকত দিন এবং এ খাবার আরও বাড়িয়ে দিন।”[হাদীসটি তিরমিযী (৩৪৫৫) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী সহীহ সুনানিত তিরমিযী (২৭৪৯) গ্রন্থে এটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]

খাওয়ার কিছু সাধারণ শিষ্টাচার

ইমাম নববী বলেন: ‘খাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হলো ত্রুটি না ধরা। যেমন: লবণ বেশি, তিতা, লবণ কম, ঘন, পাতলা, অসিদ্ধ ইত্যাদি না বলা। ইবনে বাত্তাল বলেন: এটি উত্তম শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ হয়তো কেউ এক খাবার পছন্দ করে না; কিন্তু অন্য ব্যক্তি সেই খাবার পছন্দ করে। আর শরীয়ত যা কিছু খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে তাতে কোনো ত্রুটি নেই।’[শরহে মুসলিম (১৪/২৬)]

খাওয়ার পরে আল্লাহর প্রশংসার বিভিন্ন শব্দরূপ:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাওয়ার পরে আল্লাহর প্রশংসার বিভিন্ন শব্দরূপ বর্ণিত হয়েছে:

ইবনে হাজার বলেন: “তার বাণী: غَيْرَ مَكْفِيٍّ  এর অর্থ সম্পর্কে কেউ বলেছেন: غير محتاج إلى أحد من عباده لكنه هو الذي يطعم عباده ويكفيهم (তিনি তাঁর কোনো বান্দার মুখাপেক্ষী নন। বরঞ্চ তিনিই তার বান্দাদেরকে খাওয়ান এবং প্রয়োজন পূরণ করেন। তার বাণী: ولا مودع (বিদায় জানিয়ে নয়) এর অর্থ غير متروك  অর্থাৎ ছেড়ে দিয়ে নয়।’

টীকা: খাবার খাওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসাবহ সবগুলো বাণী পড়া মুস্তাহাব। কখনো এটি পড়বে, কখনো অন্যটি পড়বে; যাতে করে সব দিক থেকে সুন্নাহ সংরক্ষিত হয় এবং এই দোয়াগুলোর বরকত পায়। অধিকন্তু কখনো এই বাক্যগুলো আবার কখনো ঐ বাক্যগুলো বলার মাধ্যমে ব্যক্তি মনের ভেতর দোয়াগুলোর ভাব স্মরণ হওয়া অনুভব করতে পারবে। কেননা মানুষের মন যদি একটি যিকিরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে বারবার পড়ার কারণে দোয়াটির ভাব সে খুব কম সময়ই স্মরণে আনতে পারে।[শালহূবের ‘আল-আদাব’ (পৃ. ১৫৫) গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত]

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পানাহারের শিষ্টাচার
ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব ওয়েবসাইটে দেখান